যুক্তরাষ্ট্র সরকারে অচলাবস্থার (শাটডাউন) প্রভাবে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে বেড়েই চলেছে স্বর্ণের চাহিদা। এবার আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৯০০ ডলার ছাড়িয়েছে মূল্যবান ধাতুটির দাম। এছাড়া মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর সম্ভাবনা বৃদ্ধিও স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে। খবর রয়টার্স ও মাইনিংডটকম।
স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম বেড়ে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৯২৫ ডলার ৯১ সেন্টে দাঁড়ায়। এদিন লেনদেনের একপর্যায়ে মূল্যবান ধাতুটির দাম পৌঁছে আউন্সে ৩ হাজার ৯৪৪ ডলার ৬৩ সেন্টে। এছাড়া ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম বেড়ে ৩ হাজার ৯৫১ ডলার ৬০ সেন্ট হয়েছে।
এদিকে জাপানে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) নির্বাচনে আর্থিকভাবে উদারনীতি সমর্থনকারী প্রার্থী সানায়ে তাকাইচির বিজয়ে ইয়েনের বিনিময় হার পাঁচ মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন।
এ বিষয়ে কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘ইয়েনের বিনিময় হার কমে যাওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সরকারি শাটডাউনের কারণে স্বর্ণ খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা।’
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ফেডারেল রিজার্ভ চলতি মাসেই সুদহার আরো কমাতে পারে, এমন প্রত্যাশাও স্বর্ণবাজারকে আরো ঊর্ধ্বমুখী করে তুলেছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা অক্টোবর ও ডিসেম্বরে দশমিক ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমানোর সম্ভাবনা দেখছেন যথাক্রমে ৯৫ ও ৮৩ শতাংশ।
২০২৫ সালের এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৪৯ শতাংশ। এমনকি শিগগিরই মূল্যবান ধাতুটির বাজারদর আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ডলার ছাড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ব্যাংকিং ও আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসি।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ কারণে ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এছাড়া আর্থিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েই চলেছে স্বর্ণের দাম।
এইচএসবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের সরকার ও বড় বিনিয়োগকারীরা নিরাপত্তা ও ঝুঁকি কমানোর কারণে স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। এ কারণে ২০২৬ সাল পর্যন্ত স্বর্ণবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় থাকতে পারে।
ব্যাংকটি আরো জানায়, যদি ফেড প্রত্যাশার তুলনায় কম হারে সুদ কমায়, তাহলে স্বর্ণের দামের উত্থান কিছুটা সীমিত হতে পারে।
এছাড়া ২০২৬ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণ কেনা অব্যাহত রাখবে বলে মনে করছে এইচএসবিসি। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও ডলার-নির্ভরতা কমানোর প্রয়াস এ প্রবণতাকে সমর্থন করবে। যদিও ২০২২-২০২৪ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় ভবিষ্যতের ক্রয় কিছুটা কমে আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ডলারের গণ্ডি পেরোনো সময়ের ব্যাপার মাত্র।